February 28, 2026, 9:02 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :

কুষ্টিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২৩ নমুনা পরীক্ষা করে ১১৯ জনের করোনা শনাক্ত মৃত্যু- ৩

দৈনিক কুষ্টিয়া প্রতিবেদক/

কুষ্টিয়ায় করোনাভাইরাস মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা  বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২৩ নমুনা পরীক্ষা করে ১১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৪১ জন এবং মারা গেছেন ১৫৭ জন। এ সময় সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৬১ জন। সোমবার (২১ জুন) রাতে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৯ দশমিক ০১ শতাংশ। নতুন করে শনাক্ত হওয়া ১১৯ জনের মধ্যে কুষ্টিয়া সদরের ৩৯ জন, দৌলতপুরের ১৪ জন, কুমারখালীর ২৫ জন, ভেড়ামারার ৯ জন, মিরপুরের ২০ জন ও খোকসার ১২ জন রয়েছে। মৃত তিনজন দৌলতপুর, কুমারখালী ও সদর উপজেলার বাসিন্দা।

 

এ পর্যন্ত জেলায় ৫৭ হাজার ২৭২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে ৫৬ হাজার ৪৩৩ জনের। ৮৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

 

বর্তমানে কুষ্টিয়ায় মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩২৩ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১২৮ জন এবং হোম আইসোলেশনে আছেন ১ হাজার ১৯৫ জন।

 

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে কুষ্টিয়া জেলায় এক সপ্তাহের লকডাউন চলছে। রোববার (২০ জুন) রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই লকডাউন আগামী ২৭ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন।

 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে কুষ্টিয়া জেলায় সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়। শুধু ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি দোকান, কাঁচাবাজার ছাড়া সবধরনের দোকান, শপিংমল বন্ধ থাকবে।

 

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে বর্তমান সময়ে সর্বোচ্চ শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে। সম্প্রতি কুষ্টিয়া পৌরসভায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু এখানে কঠোর লকডাউন চলছে। এরপরও কেন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। করোনার সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে তাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বেশ কঠিন হবে।

 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা জানান, করোনার শুরু থেকেই কুষ্টিয়া জেলায় শনাক্তের হার কখনও ২০ শতাংশের ওপরে যায়নি। কিন্তু এখন শনাক্তের হার ৪০ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে।

 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, কুষ্টিয়ায় হু হু করে বাড়ছে করোনা। করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রোগীদের চাপ সামাল দিতে যেকোনো সময় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মোমেন বলেন, হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ১০০ শয্যার বিপরীতে এখন রোগীর সংখ্যা ১২৫ জন। ওয়ার্ডে নতুন করে আর কোনো রোগী ভর্তির সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল থেকে ৩০ জন সাধারণ রোগীকে পাশের মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, রোগী বাড়ছে। পরিস্থিতি ভালো না। উপজেলা পর্যায়, এমনকি গ্রাম থেকে রোগী বেশি আসছেন। ২৫০ শয্যা হাসপাতালকে খুবই দ্রুত সময়ে কোভিড ডেডিকেটেড করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আর অক্সিজেন যা আছে এবং যে হারে রোগী ভর্তি হচ্ছেন, তাতে সংকটে পড়তে হতে পারে। কারণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো থেকে যেসব রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আনা হচ্ছে, সেসব রোগীর প্রায় সবারই অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net